যুক্তরাষ্ট্রের কেসি-৪৬ হাতে পেল ইসরায়েল, দূরপাল্লার অভিযানে বাড়ল আইডিএফের সক্ষমতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৯ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অত্যাধুনিক আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান পেয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই বিমান যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে ইরানসহ দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে স্বাধীনভাবে সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
বুধবার ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অন্তত ছয়টি নতুন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের প্রথমটি ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীতে বিমানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গিডিয়ন’।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্যমতে, নতুন এই বিমান আগের ব্যবহৃত রিফুয়েলিং বিমানের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি বহন করতে পারে। একই সঙ্গে প্রতি ফ্লাইটে দ্বিগুণ সক্ষমতায় যুদ্ধবিমানগুলোতে আকাশেই জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো অনেক সহজ হবে।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের সময় এই বিমান হাতে থাকলে বিমানবাহিনীর অভিযান সক্ষমতা অনেক বেশি বাড়ত। মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী অভিযান পরিচালনায় এটি বড় সুবিধা দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সহায়তা না থাকলেও ইরান, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী কিংবা অন্যান্য দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইসরায়েলকে আরও কৌশলগত স্বাধীনতা দেবে এই বিমান।
বর্তমানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে সীমিত পরিসরে জ্বালানি নিতে পারে। নতুন এই বিমান যুক্ত হওয়ায় পঞ্চম ও চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের কার্যকর পাল্লা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিমানে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তি ও অপারেশনাল ব্যবস্থা সংযোজন করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘপাল্লার অভিযান পরিচালনা এবং আকাশে আধিপত্য বজায় রাখার সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি নির্মিত এই বিমান একটানা প্রায় ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। আকাশে অন্য বিমান থেকে জ্বালানি গ্রহণ করলে এর উড়ান সময় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ানো যায়। পাশাপাশি এতে সেনা পরিবহন ও চিকিৎসা উদ্ধার অভিযানের সুবিধাও রয়েছে, যা এটিকে বহুমুখী সামরিক সম্পদে পরিণত করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :