ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ-ক্ষমতা প্রস্তাব পাস


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগে বড় অগ্রগতি হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো যাবে না—এমন নির্দেশনা সংবলিত একটি যুদ্ধ-ক্ষমতা প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) স্থানীয় সময় অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটির পক্ষে ৫০ ভোট এবং বিপক্ষে ৪৭ ভোট পড়ে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকানের চারজন সিনেটরও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, ফলে এটি প্রথম ধাপ অতিক্রম করে।

প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ-ক্ষমতা আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার সীমা নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আনে। আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। আইনপ্রণেতাদের একাংশের দাবি, ইরান ইস্যুতে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ সেই সীমা অতিক্রম করেছে।

সিনেটে আলোচনার সময় বলা হয়, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানো সাংবিধানিক ক্ষমতার লঙ্ঘন হতে পারে। এর আগে যুদ্ধবিরতির দাবি করা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত বলে একাধিক সিনেটর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তবে এটি শুধু প্রাথমিক ধাপ। প্রস্তাবটি এখন সিনেটে চূড়ান্ত অনুমোদন, এরপর প্রতিনিধি পরিষদে পাস এবং পরে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস থেকে এ প্রস্তাবে ভেটো দেওয়া প্রায় নিশ্চিত, ফলে এটিকে আইনে পরিণত করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কঠিন।

তবুও সিনেটে ট্রাম্পের নিজ দলের কয়েকজন সিনেটরের সমর্থনকে তার নীতির প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনপ্রণেতাদের একাংশ মনে করছেন, ইরানকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি ও অনিশ্চিত সামরিক পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় ও ব্যয়বহুল সংঘাতে জড়াতে পারে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ