শেরপুর জেলায় পাহাড়ি ঢলে বোরো ক্ষতির শঙ্কা, দুশ্চিন্তায় কৃষক
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মো: রিয়াজ, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :
শেরপুরের নালিতাবাড়ীসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করলেও কৃষকদের উদ্বেগ কাটেনি। বোরো ধান ঘরে তোলার মৌসুমে আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে জেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও কৃষি বিভাগ জানায়, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ভোগাই, মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতীসহ সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৪৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায়।
বুধবার (১৩ মে) ভোররাত থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় ভারী বর্ষণের ফলে জেলার চারটি পাহাড়ি নদীতে তীব্র স্রোতে ঢল নামে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিচু ফসলি জমিতে প্রবেশ করে।
কৃষকদের অভিযোগ, অনেক স্থানে ধান পাকলেও সময়মতো কাটতে পারেননি। আবার কোথাও কাটা ধানও পানিতে ভেসে গেছে। ফলে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে গ্রামীণ সড়ক কর্দমাক্ত ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শ্রমিক সংকট ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় কৃষকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
শেরপুর কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রথম দফার বৃষ্টিতে ২৪৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেলেও পরবর্তীতে রোদ ওঠায় অধিকাংশ জমির পানি নেমে গেছে।
তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬৭ শতাংশ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। নতুন করে ভারী বর্ষণ না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
আপনার মতামত লিখুন :