দুই দিনে ভার্চুয়াল কোর্টে ৭৭৩ মামলা নিষ্পত্তি, শুনানি ২ হাজার ১৬৭টি


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব সংবাদদাতা :

দুই দিনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চুয়াল কোর্টে মোট ৭৭৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে শুনানি হয়েছে ২ হাজার ১৬৭টি মামলার। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

এর আগে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতি সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত জানিয়ে গত ২১ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ পরিচালিত হয়।

গণসংযোগ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে জানা যায়, বুধবার ভার্চুয়াল কোর্টে আপিল বিভাগে ৯৫টি মামলার শুনানি এবং ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। একই দিনে হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি হয় ৬১২টি মামলার এবং নিষ্পত্তি হয় ১৫৬টি মামলা। সব মিলিয়ে ওই দিন উভয় বিভাগে ৭০৭টি মামলার শুনানি এবং ১৭৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে (চেম্বার জজ আদালতসহ) ১৮৯টি মামলার শুনানি এবং ৯৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি হয় ১ হাজার ২৭১টি মামলার এবং নিষ্পত্তি হয় ৫০১টি মামলা। দুই বিভাগ মিলিয়ে এদিন ১ হাজার ৪৬০টি মামলার শুনানি এবং ৫৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়।

এদিকে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বৃহস্পতিবারও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন একদল আইনজীবী। সমাবেশ থেকে তারা জানান, আগামী সোমবারের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে মঙ্গলবার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ ছুটির কারণে আদালতের বিচারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মামলার জট বাড়তে থাকে এবং জরুরি আইনি প্রতিকার ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ৯ মে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ জারি করেন।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিস নির্দেশনার মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সিংসহ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচারকাজ পরিচালনার আইনি বৈধতা দেওয়া হয়। ওই বছরের ১০ মে থেকে দেশে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়, যা পরে জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়ে স্থায়ী আইনে রূপ নেয়।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ