বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে জোর দিচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব সংবাদদাতা :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে সরকারের বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে, যা বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা। এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরের অভিযোগ থাকায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত আদালতের আদেশে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে এ পর্যন্ত ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল এবং ছয়টি মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের অধীনে স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতীত সরকারের আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও গুরুত্ব পেয়েছে।

সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকাল তিনটায় অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ