পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রী ধর্ষণকারী আটক, প্রাণনাশের হুমকি কারনে সাত মাস পর মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সাইয়্যেদ শান্ত, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শালবাহান ইউনিয়নের রৌওশনপুর গ্রামে বসতবাড়ি ফাকা পেয়ে হাতপা বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় ১২ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষন পরে অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ন্যায় বিচার পেতে অভিযুক্ত আব্দুস সোবহান (৫৮) বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করলে (৯ নভেম্বর)শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ। আব্দুস সোবহান রওশনপুর এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।
ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী শালবাহান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী।শনিবার রাতে অভিযুক্ত সোবহানের গ্রেপ্তার, শাস্তি ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়, আব্দুস সোবাহান বাড়িতে লোকজন না থাকায় ওই কিশোরীকে একা পেয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে জোরধবস্ত করে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সে। এতে ওই কিশোরী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কাউকে জানায়নি। কিন্তু ধর্ষণের কারণে সে অন্ত:সত্তা হয়ে পড়েছে সে। এখন সে সাত মাসের অন্ত:সত্তা। কিভাবে একজন বয়স্ক মানুষ এরকম বিবেকহীনভাবে অসামাজিক কাজ করতে পারে। অভিযুক্ত এই আব্দুস সোনাহান চরিত্রহীন লোক। তিনি এর আগেও অনেক কুকর্ম করে জরিমানা গুনেছেন। সে কিশোরী মেয়েদের টার্গেট করে ধর্ষণ করছে। এসব নিয়ে এলাকাবাসী তার প্রতি খুবই ক্ষীপ্ত। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী জানায়, অভিযুক্ত আব্দুস সোবহান সম্পর্কে আমার দাদা হয়। বাড়িতে প্রায়ই আসতেন। গত (৪ এপ্রিল) শুক্রবারে বাড়িতে আমি একা ছিলাম। মা-বাবা মরিচ তুলতে গিয়েছিলেন। ঘরে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ বুঝে উঠার আগেই লোকটা আমাকে হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনাটি যাতে না বলি সে জন্য নানা ভয়ভীতি দেখায়। এই ঘটনা কাউক্র বললে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ কারণে কাউকে কিছু জানাইনি। এর মধ্যে আমার গর্বে সন্তান চলে এসেছে। সাত মাসের অন্ত:সত্তা। আমি এর কঠিন বিচার চাই।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা ও মামলার বাদী জানান, আমি একজন পাথর শ্রমিক। পাথর তুলে জীবিকা নির্বাহ করি। ঘটনাটি জানতাম না। কখনো জানানো হয়নি। গত বৃহস্পতিবার জানতে পারি, মেয়ের বিচার পাব কীনা খুবই দু:শ্চিন্তাবোধ করছি। আমি এখন কী করবো, মেয়েটা সবেমাত্র ৮ম শ্রেণী পড়ালেখা করছে। এর মধ্যে দাদার বয়সী লম্পট আব্দুস সোবহান বয়স্ক লোকটা মেয়েটাকে জোর করে ধর্ষণ অন্ত:সত্তা করে ফেলেছে। আমি এর সুবিচার চাই। আমার মেয়ের যে ক্ষতি করেছে তার উপযুক্ত বিচার চাই। ধর্ষক আব্দুস সোবহানের ফাঁসি চাই। প্রশাসন যথাযথ বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার (ওসি তদন্ত) নাজির হোসেন জানায়, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা থানায় এসে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। এবং ধর্ষণকারীকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :