মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে দেশের সব ধর্মের মানুষের সম্মিলন হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত পথচলার সাক্ষ্য বহন করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান- প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। আগামী হাজার বছরও এ দেশের সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তির সঙ্গে একত্রে বসবাস করবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শিশুদের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করার লড়াইয়ে কোনো ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। বিভিন্ন মত, শ্রেণি ও পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সম্মিলন ঘটেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের রাজপথের দিকে তাকালেই দেখা যায়, সেখানে বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। হাজার বছর ধরে এ দেশের মানুষ বিভিন্ন ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে একসঙ্গে পথ চলেছে। ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখতে হবে।
ঐক্যের পরিবর্তে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চায়। তবে দুঃখজনকভাবে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, অতীতেও মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষ থেকে সবাইকে গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান। কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা বক্তব্য থাকলে তা সংসদে আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়।
বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :