সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল বসানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুৎ আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ক এক বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রথম পর্যায়ে বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহ বাড়বে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার আরও ত্বরান্বিত হবে।
বৈঠকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
এ সময় সৌরবিদ্যুতের অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যাপকভাবে প্রচার এবং এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র পরিচালনায় সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল ও ওয়ালটন গ্রুপের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, একই দিনে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখি। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।"
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পাঞ্চলে পরিবেশ সুরক্ষার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কুরের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিকস, টেলিযোগাযোগ, অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর ও খেলনা শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসব খাতে বিনিয়োগে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
আপনার মতামত লিখুন :