যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র, তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য একটি চুক্তি চূড়ান্ত করতে তেহরান সফর করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। রোববার (১৪ জুন) ইসলামাবাদের দুইজন আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এপি।
ওই কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানের একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত করতেই কাতারের প্রতিনিধিরা রোববার তেহরানে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটানো সংঘাত বন্ধ হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হবে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শেহবাজ শরিফ শনিবার জানান, চুক্তিটি রোববারই স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চুক্তিটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।
কর্মকর্তারা জানান, চুক্তিটি সশরীরে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কখন এবং কীভাবে এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সবচেয়ে জটিল কয়েকটি সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। আলোচনায় পাকিস্তান গত এক মাস ধরে সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, একাধিকবার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হলেও উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে কঠোর প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছে।
তবে আলোচিত চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি, কিংবা এর প্রক্সি শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, অথবা সেগুলো চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের বিষয়টি আলোচনায় তুলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পরিবহনের জন্য এই জলপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সপ্তাহের শুরুতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্য আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মুখে পড়তে বসেছিল। বর্তমানে ৭ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার ওপর ভর করেই এই চুক্তির অগ্রগতি ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আপনার মতামত লিখুন :