আমাদের সম্পদ কোনো যুদ্ধের লুট নয়, মিত্রদের দানের তহবিলও না : ইরান


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাব্য মার্কিন পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে তেহরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আঞ্চলিক কোনো সরকারই ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার নৈতিক বা আইনি অবস্থানে নেই।

রোববার (৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো যুদ্ধের লুট নয় এবং তা তাদের মিত্রদের মধ্যে বণ্টনের জন্য কোনো তহবিলও হতে পারে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-এর ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন এবং আগের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মিত্র দেশগুলোকে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রয়টার্স জানায়, চলমান সংঘাতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ওই এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ। সর্বশেষ গত শনিবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও জানায় ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, নিক্ষেপ করা সাতটির মধ্যে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। কুয়েতে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর মিললেও হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এপ্রিলে প্রকাশিত গবেষণা সংস্থা ‘রাইস্ট্যাড এনার্জি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শুধু জ্বালানি খাতের অবকাঠামো মেরামতেই উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে কাজেম ঘারিবাবাদী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান সরকারের সম্মতি ছাড়া দেশটির কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত, স্থানান্তর বা বণ্টন করা হলে তা একটি নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে এমন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেবে ইরান।

তিনি আরও দাবি করেন, আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ নিজেদের ভূখণ্ড ও সামরিক সুবিধা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য মার্কিন বাহিনীকে দিয়েছে। ফলে তারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী নয়, বরং তাদেরই ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব স্বীকারের দাবিও আলোচনায় রয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ