ব্যাংকিং খাতের হারানো গৌরব ফেরাতে মালিকদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক মালিক ও নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত বছরগুলোতে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যখন সংগ্রাম চলছিল, তখন ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল অবস্থায় পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে দ্রুত এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, বিগত শাসনামলে গোয়েন্দা বাহিনী ব্যবহার করে ব্যাংক দখল এবং জোরপূর্বক শেয়ার লিখে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ সময় ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাত এবং মানবকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা বাড়ানো এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে বিএবির নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষা দিতে না পারাও তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও মোট অর্থের একটি বড় অংশ এখনো ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে লেনদেন হয়। এ পরিস্থিতিতে ডিজিটাল অর্থনীতি এবং কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সাক্ষাৎকালে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের ২৬ জন চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :