মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ৭ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি : ইরানের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করে গত এক থেকে দুই মাসে ইরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই।
শনিবার (২৩ আগস্ট) ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংকে (আইআরআইবি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
মোহসেন রেজাই বলেন, গত এক থেকে দুই মাসে ইরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। মার্কিন নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও এসব তেল বিক্রি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইরান প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করছে, প্রায় সেই পরিমাণ তেল মার্কিন জাহাজগুলোর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অন্য দেশগুলোকে যুক্ত না হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন রেজাই। কোনো দেশ এতে অংশ নিলে তাদের স্বার্থে আঘাত করার হুমকিও দেন তিনি।
রেজাই বলেন, প্রথমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দূরে রাখার আহ্বান জানানো হবে। তারা তা না মানলে হামলা চালানো হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, ইরান আগে কোনো উসকানি ছাড়া মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ শুরু করায় পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি তেল ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরও সেনা মোতায়েন করলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যুদ্ধ উসকে দেওয়ার অভিযোগ
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেওয়ার অভিযোগও করেন রেজাই। তাঁর দাবি, অস্ত্র বিক্রি বাড়াতেই দুই দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ ও সংঘাতকে উৎসাহিত করছে।
তবে ইরান যুদ্ধ চায় না দাবি করে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধবাজ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিন দফা আলোচনায় যেত না বা যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিত না। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান জানান তিনি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন রেজাই। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :