খামেনিকে হত্যায় ইসরায়েলের ‘ব্লু স্প্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুতেই ‘নিখুঁত’ অভিযান চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কয়েক ডজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সূত্র। খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো ওই অভিযানে ইসরায়েল ‘ব্লু স্প্যারো’ নামে শক্তিশালী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের তৈরি ‘ব্লু স্প্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১ হাজার ২৪০ মাইল পর্যন্ত পথ অতিক্রম করতে সক্ষম। আকাশ থেকে নিক্ষেপের পর এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল অতিক্রম করে মহাশূন্যে উঠে আবার পৃথিবীতে ফিরে এসে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এর ধ্বংসাবশেষ পশ্চিম ইরাকের কিছু এলাকাতেও পাওয়া গেছে।

খামেনিকে হত্যার ওই অভিযান চালানো হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধের প্রথম দিনেই। দিনটি ছিল শনিবার, যা ইসরায়েলে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এ দিনকে ঘিরেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এমন একটি ধারণা তৈরি করেন যে তাদের বাহিনী সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর এক কর্মকর্তা জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু ছবি ও তথ্য ছড়ানো হয়েছিল যাতে মনে হয় আইডিএফ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কমান্ডাররা সাবাতের রাতের খাবারের জন্য বাসায় চলে গেছেন। কিন্তু বাস্তবে তারা ছদ্মবেশে গোপনে আবার সদর দপ্তরে ফিরে এসে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মূলত রাতে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের শনিবার সকালের একটি বৈঠকের তথ্য গোয়েন্দারা পেয়ে যাওয়ায় সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়।

আইডিএফ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে পাস্তুর স্ট্রিটে অবস্থিত খামেনির কম্পাউন্ডে যখন ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিরাপত্তারক্ষীরা পৌঁছান, তখন থেকেই তাদের ওপর নজর রাখছিল ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। ওই এলাকায় বসানো একটি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল এবং সব তথ্য পাঠানো হচ্ছিল তেল আবিবে।

ইরানের স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইসরায়েল এফ–১৫ যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর খামেনির কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে ‘ব্লু স্প্যারো’সহ প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

‘ব্লু স্প্যারো’ মূলত আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজ, যা সোভিয়েত ইউনিয়নের স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির আদলে তৈরি। এগুলো সাধারণত যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয়। মহাশূন্য পর্যন্ত উঠে আবার পৃথিবীর দিকে ফিরে আসার সময় এগুলো অত্যন্ত উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, ফলে আকাশে ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দফার হামলার সময় আইডিএফ ও মার্কিন বাহিনী সরাসরি যুক্ত ছিল, যাতে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

একই সময়ে খামেনির কম্পাউন্ড এলাকায় একাধিক মোবাইল ফোন টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, যাতে কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পৌঁছাতে না পারে। এই হ্যাকিং ও গোয়েন্দা তৎপরতা ছিল খামেনিকে হত্যার জন্য মোসাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ আগেই ৮৬ বছর বয়সী খামেনির চলাফেরা ও দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই হামলায় খামেনি ছাড়াও ইরানের ৪০ জনের বেশি শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুর রহিম মুসাভিও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ