এক ভিসাতেই ঘোরা যাবে উপসাগরের ৬ দেশ, আসছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে উপসাগরীয় অঞ্চলে চালু হতে যাচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’। এই ভিসা চালু হলে একটি ভিসা নিয়েই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্য দেশ—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত—ভ্রমণ করা যাবে।
নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে মধ্যপ্রাচ্যের এক দেশ থেকে অন্য দেশে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। বর্তমানে ছয়টি জিসিসি দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক বিদেশি নাগরিককে আলাদা ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। একক ভিসা চালু হলে সেই জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে।
খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই জানান, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই একক পর্যটন ভিসা চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একটি অনুমতিপত্রের মাধ্যমে পুরো জিসিসি অঞ্চলে পর্যটনের সুযোগ তৈরি হবে। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো ছয়টি উপসাগরীয় দেশকে একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন খাতের আয় বৃদ্ধি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভ্রমণ সহজ করাও এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটকদের জন্যও এই ভিসা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আলাদা ভিসা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সময় ব্যবস্থাপনার কারণে পর্যটকদের বাড়তি জটিলতার মুখে পড়তে হয়।
একক ভিসা চালু হলে একই সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আধুনিক নগরজীবন, সৌদি আরবের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান, কাতারের পর্যটন আকর্ষণ এবং ওমানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ আরও সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে বাহরাইন ও কুয়েতের পর্যটনকেন্দ্রগুলোও এক সফরের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’র আবেদন প্রক্রিয়া, ভিসা ফি, অবস্থানের মেয়াদ এবং কোন দেশের নাগরিকরা কী শর্তে আবেদন করতে পারবেন—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিয়ম ও নির্দেশনা জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একক পর্যটন ভিসার পরিকল্পনা শুধু পর্যটন খাতের বিকাশেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতাও আরও জোরদার হতে পারে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, ব্যবসা ও বিনোদনসহ বিভিন্ন খাতকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে উপসাগরীয় দেশগুলো যে উদ্যোগ নিয়েছে, এই ভিসা তারই একটি অংশ।
শেনজেনের আদলে আঞ্চলিক পর্যটন ভিসা চালু ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জিসিসি অঞ্চল একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। এতে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি উপসাগরীয় দেশগুলোর পর্যটন ও অর্থনীতিতেও নতুন গতি আসতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :