ট্রাম্পের ১৮০ কোটি ডলারের তহবিল ঘিরে রিপাবলিকান দলে বিভক্তি, সিনেটে অস্বস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রস্তাবিত ১৮০ কোটি ডলারের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বিরোধী’ তহবিলকে ঘিরে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি–এর ভেতরেই তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এই তহবিলকে সমর্থন করা হবে, নাকি এর বিরোধিতা করা হবে- সে বিষয়ে দ্বিধায় পড়েছেন দলের অনেক সিনেটর।
শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
এই তহবিলের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তবে এই অর্থ ট্রাম্পঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক মিত্রদের সুবিধা দিতেই ব্যবহার হতে পারে, যা স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।
রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন সিনেট–এ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি স্পষ্ট। মেমোরিয়াল ডে’র ছুটির আগে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ৫৩ জন রিপাবলিকান সিনেটরের প্রায় অর্ধেকই এই তহবিল নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন।
আইনপ্রণেতারা বলছেন, কারা এই অর্থ পাবেন, কোন প্রক্রিয়ায় তা দেওয়া হবে এবং কার তত্ত্বাবধানে বিতরণ হবে— এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে এমন একটি বিল সমর্থন করা কঠিন। তাদের আশঙ্কা, ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে হামলায় জড়িত কিছু ট্রাম্প সমর্থকও এই তহবিলের আওতায় আসতে পারেন, যা রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়াবে।
এরই মধ্যে এক ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে এই তহবিলের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষ রিপাবলিকান কৌশলী জানান, দলের নিরাপদ আসনের আইনপ্রণেতারাও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।
আগামী ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানরা এমনিতেই চাপে রয়েছে। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, ইরানের সঙ্গে চলমান একটি অজনপ্রিয় সংঘাত এবং দলের ভেতরেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে করদাতাদের অর্থ দিয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি ভোটারদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতারা।
বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনি আইনজীবী জেমস ট্রুপিস ও কলোরাডোর সাবেক নির্বাচনি কর্মকর্তার মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের এই তহবিলের আওতায় আসার সম্ভাবনা। ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ভুয়া দাবি ও জালিয়াতির মামলায় অভিযুক্ত ট্রুপিস ইতোমধ্যে কয়েক মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করেছেন।
এদিকে, সিনেটের বিচারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানসহ প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কংগ্রেসের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই তহবিলে অন্ধ সমর্থন দেবেন না। ফলে আগামী সপ্তাহে সিনেট অধিবেশন শুরু হলে এই তহবিল ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট এড়াতে হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজছেন সিনেটের শীর্ষ নেতারা।
আপনার মতামত লিখুন :