ঈদ ঘনালেও জমেনি কামারপট্টির বাজার, দুশ্চিন্তায় দেবীগঞ্জের কর্মকাররা
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সোহাগ হোসেন, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি :
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। আর মাত্র দুই দিন পরই কোরবানির ঈদ। এই সময়টায় সাধারণত জমজমাট থাকার কথা দেবীগঞ্জের কামারপট্টিগুলো। তবে এবার ঈদ সামনে এলেও আশানুরূপ বিক্রি নেই দা, বটি, ছুরি ও চাপাতির। উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অথচ ক্রেতা কম, এমন বাস্তবতায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কর্মকাররা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দেবীগঞ্জ উপজেলা–র বিভিন্ন এলাকার কামারপট্টি ঘুরে দেখা যায়, কামারশালার সামনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কোরবানির সরঞ্জাম। কোথাও নতুন দা-বটি তৈরি হচ্ছে, কোথাও আবার পুরনো সরঞ্জামে দেওয়া হচ্ছে শান। আগুনের তাপে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকাররা, কিন্তু ক্রেতার আনাগোনা তুলনামূলক কম।
কর্মকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত ঈদের ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই বেচাকেনা শুরু হয়। কিন্তু এবার ঈদের এক সপ্তাহ আগেও সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় উৎপাদন খরচও অনেক বেশি পড়ছে, ফলে লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনাও কমে গেছে।
শচিন রায় নামে এক কর্মকার বলেন, সারা বছরই আমাদের কাজ চলে, তবে ঈদের সময় ব্যস্ততা অনেক বেড়ে যায়। দিন-রাত পরিশ্রম করে ক্রেতাদের জন্য জিনিস তৈরি করছি। এটা আমাদের বাপ-দাদার পেশা, চাইলেও সহজে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
কোরবানির জন্য ছুরি ও চাপাতি কিনতে আসা আবুল হোসেন বলেন, এখন সবকিছুর দামই বেড়েছে। লোহার জিনিসপত্রও আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তারপরও কোরবানির প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় শতাধিক পরিবার এই কামার পেশার সঙ্গে জড়িত। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাঁচামালের দাম বাড়ায় অনেকের পক্ষেই টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বাপ-দাদার পুরনো এই পেশা।
তবু ঈদ সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে বিক্রি বাড়ার আশায় রয়েছেন কর্মকাররা। এখন দেখার বিষয়, শেষ সময়ে জমে ওঠে কিনা দেবীগঞ্জের কামারপট্টির ঈদের বাজার।
আপনার মতামত লিখুন :