আসুন আমরা আমাদের এই দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করি : তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
অনলাইন ডেস্ক :
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘যার যতটুকু অবস্থান আছে, সেখান থেকে আসুন আমরা আমাদের এই দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমরা সচেষ্ট হই। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি এই আহবান জানান।
খুব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, কোথাও যদি রাস্তায় কাগজ পড়ে থাকে, ময়লা হয়ে থাকে, তখনই সেটাকে আমরা সরিয়ে দেব। এভাবে ছোট ছোট কাজ করার মাধ্যমে দেশটাকে গড়ে তুলব। নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সবাইকে অনুরোধ করব, দ্রুত রাস্তাটাকে খালি করে দিন, যাতে সাধারণ মানুষ চলাফেরা করতে পারে। আজ এখানে আমাদের কোনো অনুষ্ঠান নেই। আমরা যদি এই রাস্তাটা বন্ধ করে রাখি, তাহলে সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা হবে।
যেহেতু কোনো অনুষ্ঠান নেই, সে জন্য যত দ্রুত সম্ভব আমরা যেন এখান থেকে চলে যাই। ইনশাআল্লাহ যখন কর্মসূচি নেব তখন আপনাদের সামনে বক্তব্য দেব। সবাই ভালো থাকবেন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন।
এ দিন বিকেল ৩টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে বের হয় তারেক রহমানের গাড়িবহর। ৪টা ৫ মিনিটে তিনি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান। দীর্ঘ ১৯ বছর পর নয়াপল্টন অফিসে এটিই তাঁর প্রথম যাওয়া। তিনি সর্বশেষ ২০০৬ সালে নয়াপল্টনের এই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন।
তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার নেতাকর্মী হাজির হন। এত নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে তাঁর গাড়ি নাইটিঙ্গেল মোড় থেকেই ধীরগতি হয়ে যায়। পল্টন থানার সামনে দিয়ে ঘুরে আসতে প্রায় ৩০ মিনিট লাগে। তখন নেতাকর্মীরা ‘বাংলাদেশের প্রাণ, তারেক রহমান’, ‘তারেক রহমান এসেছে, বাংলাদেশ হাসছে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। একই সঙ্গে সমবেত করতালি দিয়ে তাঁদের নেতাকে শুভেচ্ছা জানান।
এরপর তারেক রহমান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলায় গিয়ে বক্তব্য দেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কক্ষের পাশেই তাঁর জন্য আলাদা কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। আসুন, দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করি
ফুলেল অভ্যর্থনা : কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার পর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান। তাঁকে বরণ করে নিতে আগে থেকেই কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাঁকে স্বাগত জানান।
তারেক রহমানের আগমনের খবরে দুপুর থেকেই নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ স্লোগান দেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তারেক রহমান গত রবিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারনের কার্যালয়ে প্রথম অফিস করেন। আর গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফেরেন।
এদিকে তারেক রহমান দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ত্যাগ করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, তাঁর জীবনের ওপর দিয়ে অনেক ঝড় বয়ে গেছে। তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে, কারাগারে রাখা হয়েছে। নির্যাতনে তাঁকে যেভাবে আহত করা হয়েছিল, চিকিৎসা নিতে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। রিজভী বলেন, কোনো প্রস্তুতি ছাড়া হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছেন, যা মানুষের কাছে বার্তা দেয়, জনগণের পক্ষে থেকে যিনি লড়াই করেন, তাঁর প্রতি জনগণের শুভেচ্ছা জানাতে এত বিপুল পরিমাণে ভালোবাসার ঢল নামে।
সূত্র : সংগ্রহ
আপনার মতামত লিখুন :