নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সারাদেশে মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নগর থেকে গ্রাম—অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের বিশেষ অভিযানে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে বিপুলসংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪ অক্টোবরের অভিযানে এক হাজার ৮০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানী ঢাকাতেও কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান জোরদারের প্রস্তুতি চলছে। ডিএমপির সাম্প্রতিক তথ্যে রাজধানীতে ১২২টি সক্রিয় অপরাধী চক্র বা গ্যাংয়ের তথ্য উঠে এসেছে।
শুধু জেলা পর্যায়েই নয়, দেশের আটটি মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটও অপরাধ দমনে নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার নিজ নিজ ইউনিটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বিশেষ করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও চাঁদাবাজ, অবৈধ দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশও মাদক উদ্ধার, আসামি গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়েবসাইটেও মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও অপরাধী চক্রের বিষয়ে তথ্য দিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এবং চাঁদাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য পৃথক হেল্পলাইন চালু রয়েছে।
সরকারের কঠোর নির্দেশ
চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তালিকা তৈরি করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গত মার্চে ডিএমপি সদর দপ্তরে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত না করার কথাও বলা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরে জানিয়েছেন, শুধু চাঁদাবাজ নয়, চাঁদাবাজির সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তাদেরও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সরকার মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি, যৌথ ও পরিকল্পিত অভিযান চালানোর কথাও তিনি বলেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক না কেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের ধারাবাহিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে জনমনে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।