1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ০৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট, গণঅভ্যুত্থানে বদলে যায় দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন। আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সূচনা হয় নতুন এক অধ্যায়ের।
কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সময়ের পরিক্রমায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, শ্রমিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন।
টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং হাজারো মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা দেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে যায়। আন্দোলনের সময় বহু পরিবার তাদের স্বজন হারায়, আবার অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির শিকার হন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিল উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের ঢল নামে। দুপুরের পর সেই জনসমাগম রূপ নেয় বিশাল জনসমুদ্রে। আন্দোলনে শুধু শিক্ষার্থী বা রাজনৈতিক কর্মীরাই নয়, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
দিনের একপর্যায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন ত্যাগ করেন। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর দেশত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। বিকেল ৩টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেনাপ্রধান শেখ হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজয়োল্লাস শুরু হয়।
সেনাপ্রধানের বক্তব্যের পর হাজারো মানুষ বিজয় মিছিল নিয়ে গণভবনের সামনে ও ভেতরে জড়ো হন। সেদিন গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
৫ আগস্টের সেই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতার সূচনা করে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং সংস্কার কার্যক্রম শেষে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল ও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: -
যোগাযোগ: অফিস : বসুন্ধরা, ঢাকা-১২২৯
মোবাইল: +880 9639191660
ইমেইল: newsbanglanews77@gmail.com
© ২০২৫-২০২৬ নিউজ বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত