নিচের লেখাটি A4 কাগজে যেভাবে দেখাবে, ঠিক সেভাবেই প্রিন্ট হবে।
ফিরে যান
Logo
,

ট্রাম্পের কূটনৈতিক বার্তা, তেহরানের পাল্টা অবস্থানে বাড়ল অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
ট্রাম্পের কূটনৈতিক বার্তা, তেহরানের পাল্টা অবস্থানে বাড়ল অনিশ্চয়তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দেশের অবস্থান নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে সংলাপের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। তিনি দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং ইরানের জন্য একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর এটিই ‘শেষ সুযোগ’।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই এই প্রণালি খুলে যেতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমাধানে আরও সময় লাগবে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। তাঁর ভাষ্য, তেহরান কেবল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং এ বিষয়ে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বাঘাই বলেন, দুই দেশের সার্বভৌম অধিকার ও নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে গ্রহণযোগ্য একটি নৌপথ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। তবে এ ধরনের সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ এনে বলেন, প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করলেও বাস্তবে সমাধানের পথ খুঁজতে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া ইরানে কোনো পণ্য প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি অথবা ইরানের ‘পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান বহাল থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমানে দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই দুই ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনো পরস্পরবিরোধী হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
মূল লেখা : https://www.newsbangla.news/details/4598