1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
আখেরি চাহার সোম্বার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ইসলামি বিশ্লেষণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্ম ডেস্ক :
হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকে অনেক দেশে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ নামে পালন করা হয়। আরবি ও ফারসি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এ নামের অর্থ হলো সফর মাসের শেষ বুধবার। তবে এ দিন পালনকে কেন্দ্র করে ইসলামি আলেম ও গবেষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতভেদ রয়েছে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সফর মাসের শেষ বুধবার মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অসুস্থতা থেকে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করেছিলেন। এ উপলক্ষে সাহাবায়ে কেরাম আনন্দ প্রকাশ করে দান-সদকা ও শুকরিয়া আদায় করেছিলেন বলে অনেকে দাবি করেন। সেই স্মরণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু মুসলমান নফল ইবাদত, দোয়া ও দান-সদকার মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকেন। বাংলাদেশেও এ উপলক্ষে ঐচ্ছিক সরকারি ছুটির বিধান রয়েছে।
তবে ইসলামি গবেষকদের একটি বড় অংশের মতে, মহানবী (সা.) ঠিক কোন দিনে অসুস্থ হয়েছিলেন বা সুস্থতা অনুভব করেছিলেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য হাদিস ও ঐতিহাসিক সূত্রে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তিকালের পর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন কিংবা তাবে-তাবেয়িনদের কেউ এই দিনকে বিশেষভাবে পালন করেছেন এমন প্রমাণও নেই।
ইতিহাসবিদদের মতে, রাসুল (সা.)-এর অসুস্থতার সময়কাল, শুরুর দিন এবং স্থায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে। কোনো বর্ণনায় ১০ দিন, কোথাও ১২, ১৩ বা ১৪ দিনের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে তিনি শনিবার, সোমবার কিংবা বুধবার অসুস্থ হয়েছিলেন বলেও বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। ফলে সফর মাসের শেষ বুধবারকে নির্দিষ্টভাবে বিশেষ দিনের মর্যাদা দেওয়ার পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না।
আবার কেউ কেউ দাবি করেন, সপ্তম হিজরিতে ইহুদিদের জাদুর প্রভাবে অসুস্থ হওয়ার পর সফর মাসের শেষ বুধবার তিনি সুস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু গবেষক আলেমদের মতে, এ দাবির সঙ্গেও ঐতিহাসিক তথ্যের মিল নেই। কারণ, জাদুর ঘটনাটি ঘটেছিল সপ্তম হিজরিতে, আর শেষ অসুস্থতার ঘটনা ছিল একাদশ হিজরিতে। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে সময়গত পার্থক্য রয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামি গবেষকদের বক্তব্য, যদি সফর মাসের শেষ বুধবার বিশেষ আমলের দিন হতো, তবে তা কোরআন, সহিহ হাদিস কিংবা সাহাবায়ে কেরামের আমলে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকত। যেহেতু এমন কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল পাওয়া যায় না, তাই এই দিনকে বিশেষ ইবাদতের দিন হিসেবে নির্ধারণ করে পালন করাকে শরিয়তসম্মত মনে করেন না অনেক আলেম।
তারা মহানবী (সা.)-এর হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করবে, যার প্রতি আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মুসলমানদের উচিত কোরআন ও সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত ইবাদত ও আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং যেসব বিষয়ে শরিয়তে সুস্পষ্ট ভিত্তি নেই, সেগুলোকে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা বা বিশেষ ফজিলতের আমল হিসেবে প্রচার না করা।
তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নধর্মী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চা থাকায় আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। তাই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে নির্ভরযোগ্য ইসলামি জ্ঞানী ও সহিহ দলিলের আলোকে আমল করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: -
যোগাযোগ: অফিস : বসুন্ধরা, ঢাকা-১২২৯
মোবাইল: +880 9639191660
ইমেইল: newsbanglanews77@gmail.com
© ২০২৫-২০২৬ নিউজ বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত