1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ০৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
ওসমানীনগর ইউএনওর সংবাদ সম্মেলন ঘিরে নতুন বিতর্ক, প্রশাসনিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
শরীফ আহমদ চৌধুরী, ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি :
বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না ওসমানীনগর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে। ‘আপা’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে বনফুলের এক কর্মচারীকে জরিমানা করার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার অফিস চলাকালীন সংবাদ সম্মেলন আয়োজন নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় তিনি স্বীকার করেন, বনফুলের কর্মচারী আব্দুল মান্নান তাকে একাধিকবার ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তবে তার দাবি, ‘আপা’ সম্বোধনের কারণে নয়, বরং বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে ওই কর্মচারীকে জরিমানা করা হয়েছে।
এর আগে কর্মচারী আব্দুল মান্নান দাবি করেন, ‘আপা’ সম্বোধনের কারণেই তাকে জেল ও জরিমানার মুখে পড়তে হয় এবং চাকরিচ্যুত করা হয়। তিনি বলেন, প্রথমে শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত না থাকলেও পরে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাকে জেলের ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনের সময় উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে সে ধরনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা তার জানা নেই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রসঙ্গ টেনে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ‘আপা’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদটি হয়তো ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে।
মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার নিয়ে তিনি বলেন, কোনো কোম্পানি তাদের কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে, তা মোবাইল কোর্টের বিচার্য বিষয় নয়। মোবাইল কোর্ট কেবল সংঘটিত অনিয়ম বা অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। তবে শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীর কাছ থেকে জরিমানা আদায় ও স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ইউএনও স্বীকার করেন, চাকরি রক্ষা ও জরিমানা কমানোর অনুরোধ নিয়ে কর্মচারী আব্দুল মান্নান তার কার্যালয়ে এসেছিলেন। তবে জরিমানা কমানোর সুযোগ ছিল না বলে তিনি দাবি করেন এবং চাকরি রক্ষার বিষয়ে তিনি আন্তরিক ছিলেন বলেও জানান।
অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনওর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পাঠানো খুদে বার্তাও দেখা হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম–এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনিও সাড়া দেননি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মত, সরকারি অফিসের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণকে দ্রুত ও কার্যকর সেবা দেওয়া। অফিস চলাকালে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: -
যোগাযোগ: অফিস : বসুন্ধরা, ঢাকা-১২২৯
মোবাইল: +880 9639191660
ইমেইল: newsbanglanews77@gmail.com
© ২০২৫-২০২৬ নিউজ বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত