1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ০৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি ওয়ার্ডে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
মেহদী হাসান, ক্রাইম রিপোর্টার, নড়াইল :
নড়াইলের কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ কর্তব্যরত কয়েকজন নার্স ও আয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, অবৈধ অর্থ আদায় এবং রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রসূতি ওয়ার্ডে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা এসব অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার প্রসূতি ওয়ার্ডে গিয়ে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ডেলিভারির সময় বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। খাশিয়াল গ্রামের সিয়াম শরীফের স্ত্রী নাজমিন বেগম, ঘড়িভাঙ্গা গ্রামের আরোজ আলীর স্ত্রী শাহানাজ বেগম এবং বড়নাল গ্রামের নাজমুলের স্ত্রী মলিনা বেগমসহ আরও কয়েকজন অভিযোগ করেন, ডেলিভারির সময় বিনা অনুমতিতে পাশ কাটা হয়। ডেলিভারি শেষে কর্তব্যরত নার্স ও আয়াদের চারটি বড় সাবান, দুই কেজি হুইল পাউডারসহ বিভিন্ন সামগ্রী দিতে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বকশিশ দাবি করা হয় বলেও তারা জানান।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দাবি অনুযায়ী অর্থ বা সামগ্রী না দিলে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এতে প্রসূতি ও তাদের পরিবার মানসিকভাবে চরম চাপে পড়ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তৃতীয় তলার ডিউটি রুমে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের নাম জানতে চাইলে সিনিয়র স্টাফ নার্স বিউটি বেগম তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই সময় প্রসূতি ওয়ার্ডে দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স সেলিনা বেগম ও প্রীতি মজুমদার। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় কর্মরত থেকে তারা বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত রয়েছেন।
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্সদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মাদ শোয়াইব বলেন, প্রসূতি ওয়ার্ডে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আগামী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: -
যোগাযোগ: অফিস : বসুন্ধরা, ঢাকা-১২২৯
মোবাইল: +880 9639191660
ইমেইল: newsbanglanews77@gmail.com
© ২০২৫-২০২৬ নিউজ বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত